পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উৎসব “মৈত্রীময় সাংগ্রাই, বিঝু, বৈসু-২০২৬”। ভিন্ন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে উৎসবটি রূপ নিয়েছে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য মিলনমেলায়।
বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জুড়ে উৎসবকে ঘিরে বিরাজ করছে বর্ণিল পরিবেশ। মারমা, চাকমা, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নানা আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।
মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই, চাকমাদের বিঝু এবং ত্রিপুরাদের বৈসু উৎসবের পাশাপাশি তঞ্চঙ্গ্যা, খিয়াংসহ অন্যান্য জনগোষ্ঠীর চাংক্রান, সাংক্রাই ও সাংলান উৎসবও একই সময়ে পালিত হচ্ছে। এসব উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ পানি খেলা, যা নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে বসছে বৈসাবি মেলা, আয়োজন করা হচ্ছে লোকজ গান, নৃত্য ও ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার। পাশাপাশি পাহাড়ি বিশেষ খাবার পরিবেশনেও ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, এই উৎসব শুধু আনন্দের নয়, বরং পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহাবস্থানের বার্তা বহন করে। সব সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে অংশগ্রহণ করায় উৎসবটি হয়ে ওঠে সত্যিকার অর্থেই “মৈত্রীময়”।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যাতে উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। পর্যটকদের আগমনেও মুখর হয়ে উঠেছে পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলো।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ইতিবাচক বার্তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।
আপনার মতামত লিখুন :