ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৩


admin@din2772 প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৯, ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ /
ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৩

গাজী ইব্রাহিম খলিল, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে শিশুসহ অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিসিক শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামান জানান, স্থানীয় যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। একটি পক্ষ গত প্রায় ১৮ মাস ধরে একটি কারখানার ঝুট নামানোর কাজ করছিল, যা নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই বিরোধই শেষ পর্যন্ত সহিংসতায় রূপ নেয়।

এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন রাকিব (২৩), রফিক (৪০) এবং ১৩ বছর বয়সী ইমরান হোসেন। গুরুতর আহত ইমরানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে তার পেটে গুলি লাগে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, রাকিব ও রফিক নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এনায়েতনগর ইউনিয়নের একটি কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারীরা, আরেক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান।

সংঘর্ষের জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। এক পক্ষের দাবি, তারা কারখানার সামনে অবস্থান নিলে প্রতিপক্ষ তাদের ওপর হামলা চালায়। অন্য পক্ষ বলছে, বৈধভাবে ঝুট সংগ্রহকারীদের ওপরই হামলা করা হয়েছে এবং ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়, বরং ব্যবসায়িক বিরোধের ফল।

অভিযোগ উঠেছে, সংঘর্ষে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং কয়েকজন নেতা গুলিবর্ষণে অংশ নিয়েছেন। তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনায় কারা গুলি চালিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।