গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুন নাহার ইতি। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই স্বাস্থ্যসেবার মান অবনতির দিকে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী রোগী ও স্থানীয়রা।অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। সরকারি সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ না দিয়ে বাইরে থেকে করাতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী রোগীদের দৈনিক প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে প্যারাসিটামল, অ্যান্টাসিড, হিস্টাসিন ও আয়রন ট্যাবলেট ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে গর্ভবতী নারী ও নবজাতকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।এছাড়া ইনজুরি সার্টিফিকেট প্রদানে অনিয়ম, রোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখিয়ে অর্থ আদায়, এবং হাসপাতালের স্টাফদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে আরএমও’র বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ৩১ শয্যার কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০১২ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সেবার মান তেমন উন্নত হয়নি। বরং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। তারা অভিযোগ করেন, প্রায় এক যুগ ধরে একই হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে আসা আরএমও ডা. নাজমুন নাহার ইতি বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন।
জানা যায়, তিনি ২৬ আগস্ট ২০১৪ সালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১৮ সালে পদোন্নতি পেয়ে আরএমও হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০২১ সালে তার বদলির আদেশ হলেও তা কার্যকর হয়নি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাকে শোকজ করা হলেও এখনো তিনি বহাল তবিয়তে কর্মরত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কোয়ার্টারে থাকার কথা থাকলেও তিনি নিয়মিত সেখানে অবস্থান করেন না। বরং টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে যাতায়াত করেন। এমনকি তার জন্য বরাদ্দ কোয়ার্টার অন্যদের ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া তিনি দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন জানান, আরএমও তিন দিনের ছুটি নিয়ে সাত দিনের নৈর্ব্যক্তিক ছুটি ভোগ করেন। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত সমস্যার কথা জানালেও নির্ধারিত সময়ের বেশি ছুটি অনুমোদন করা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি প্রায় এক মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে আরএমও ডা. নাজমুন নাহার ইতি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বরং সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, “আরএমও’র বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”স্থানীয়দের দাবি, স্বাস্থ্যসেবার মান ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন :