
স্টাফ রিপোর্টার:-
২০০৩–২০২৬ সময়ে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ২০২২–২০২৪ সালের ১৫ লাখ টাকা নিয়ে পৃথক প্রশ্ন; নিরপেক্ষ তদন্ত ও পূর্ণাঙ্গ অডিটের দাবি
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম): শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা টিউশন ফির কোটি টাকার হিসাব কোথায়—এ প্রশ্নকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার গারাংগিয়া ইসলামিয়া রব্বানী মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ নুরুল আলম ফারুকীর বিরুদ্ধে নিয়োগ, পদায়ন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষক হয়রানিসহ ২৩ দফা অভিযোগ তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, ২০০৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা টিউশন ফির মধ্যে প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের পৃথক অভিযোগও রয়েছে।
তবে দীর্ঘ সময়ের প্রায় এক কোটি টাকা এবং ২০২২–২০২৪ সালের ১৫ লাখ টাকার অভিযোগের মধ্যে হিসাবের পুনরাবৃত্তি রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সময়ের ব্যাংক হিসাব, ক্যাশবুক, রসিদ, ভাউচার, আয়-ব্যয়ের বিবরণী এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন যাচাই করা জরুরি।
২৩ দফা অভিযোগে তোলপাড়, প্রশ্নের মুখে আর্থিক স্বচ্ছতা
অভিযোগপত্রে শুধু টিউশন ফির হিসাব নয়, অডিটের নামে অর্থ গ্রহণ, ভাউচার ও রেজুলেশন ব্যবস্থাপনা, বেতন-ভাতা, বিভিন্ন তহবিল এবং প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির হুমকি, অপবাদ ও প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে।
অন্যদিকে অধ্যক্ষের নিয়োগ, আলিম স্তরে পদায়ন, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন। এসব অভিযোগ যাচাইয়ে নিয়োগসংক্রান্ত নথি, পরিচালনা কমিটির রেজুলেশন, শিক্ষাগত সনদ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
১৫ লাখ টাকার অভিযোগের হিসাব কী?
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২২–২০২৪ সালের আর্থিক লেনদেন বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হলে অর্থ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন অসংগতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে ঠিক কত টাকা আদায় হয়েছে, কত টাকা ব্যাংকে জমা পড়েছে, কোন খাতে ব্যয় হয়েছে এবং কোনো অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর স্বাধীন নিরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তদন্তের উদ্যোগের কথা, চূড়ান্ত ফলাফল কোথায়?
অভিযোগপত্রে উপজেলা পর্যায়ে তদন্ত এবং ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে পুনঃতদন্তের উদ্যোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ কপি, ফলাফল এবং কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলোর বর্তমান অবস্থা, তদন্তের অগ্রগতি এবং আর্থিক নিরীক্ষার বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন অভিযোগকারীরা।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগকারীদের বক্তব্যের পাশাপাশি অধ্যক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, আর্থিক নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার দাবি উঠেছে।
অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ নুরুল আলম ফারুকী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার মতামত লিখুন :